প্রযুক্তি যখন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে সহজ করে তুলছে, তখন স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে ‘Live Cure Life’। রক্তদান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি নিরাপত্তা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একত্রিত করে তৈরি হওয়া এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের প্রথম সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
YAV Foundation-এর উদ্যোগে নির্মিত এই প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রোহিত রায়। এই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্যরা হলেন ইয়াভ ফাউন্ডেশন এর কো চেয়ারম্যান মোঃ নাফিস আনজুম রিফাত, অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাস, ন্যাশনল কো-অর্ডিনেটর মহিউদ্দিন বুলবুল, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুমন চক্রবর্তী, বিভাগীয় কো অর্ডিনেটর মোঃ রিজওয়ান খান,ইয়াভ স্কোয়াড এর ইয়ুথ চিফ তাসজিদ হাসান আদর্শ প্রমুখ। প্রকল্পটির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে পিপলস পালস অ্যাসোসিয়েশন। উদ্যোক্তাদের দাবি, মানুষের জীবন বাঁচানো, মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান—এই তিনটি লক্ষ্য নিয়েই ‘Live Cure Life’-এর যাত্রা।
প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার রক্তদাতাদের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় রক্ত দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে রয়েছে বাংলা ভাষাভিত্তিক AI Mental Health Support, যেখানে ব্যবহারকারীরা ২৪ ঘণ্টা মানসিক সহায়তা নিতে পারবেন। এছাড়া মানসিক চাপ কমানো, একাকীত্ব দূর করা এবং স্মৃতিশক্তি উন্নয়নে সহায়ক বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমসও সংযুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য রয়েছে ইন্টারঅ্যাকটিভ বাংলাদেশ ম্যাপ, বিশেষজ্ঞ মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক, লাইভ চ্যাটরুম, ভয়েসভিত্তিক AI সাপোর্ট এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা।
তবে ‘Live Cure Life’-এর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো Panic Alert ও Family Shield ফিচার।
ব্যবহারকারী লোকেশন চালু রেখে মাত্র এক ক্লিকে Panic Alert সক্রিয় করলেই তার লাইভ লোকেশনসহ জরুরি সংকেত তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধিত পরিবারের সদস্য, YAV Foundation-এর বিশেষ রেসপন্স টিম এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে যাবে। ফলে ঘটনাস্থল দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় প্রযুক্তির এমন ব্যবহার দেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটি সম্পর্কে রোহিত রায় বলেন, “প্রযুক্তিকে মানুষের জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই আমাদের লক্ষ্য। রক্তের অভাবে যেন কোনো প্রাণ না ঝরে, আবার কেউ যেন বিপদের মুহূর্তে একা না থাকে—সেই ভাবনা থেকেই ‘Live Cure Life’-এর যাত্রা।”
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলে সহিংসতা ও অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেশের প্রতিটি জেলাকে নিরাপদ করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। ‘Orange City’ ধারণাকে সম্প্রসারিত করে একদিন ‘Orange Country’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন তিনি, যেখানে প্রতিটি জেলা হবে নিরাপদ, সচেতন এবং সহিংসতামুক্ত। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সফল বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এটি সারা দেশে সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
উদ্যোক্তারা জানান, ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের সঙ্গে এই উদ্যোগ নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সীমিত পরিসরে পাইলট কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তাদের বিশ্বাস, সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এই প্ল্যাটফর্ম শুধু রক্তদান ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকেই নয়, বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তি, মানবিকতা ও নিরাপত্তাকে একই ছাতার নিচে এনে ‘Live Cure Life’ হয়তো বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।